Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

এমন প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য গর্ববোধ করবে গোটা দেশ !

নিউজ বাংলা ডেস্ক : তিনি পেশায় একজন প্রাথমিক শিক্ষক। অনেকগুলো বছর ধরে পেশার সুবাদে সমাজের ভিত গড়ার দায় যিনি তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। কিন্তু একজন শিক্ষক যে শুধু স্কুলের গন্ডীর মধ্যেই পাঠ দিতে পারেন এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছেন দুর্গাপুর…

নিউজ বাংলা ডেস্ক : তিনি পেশায় একজন প্রাথমিক শিক্ষক। অনেকগুলো বছর ধরে পেশার সুবাদে সমাজের ভিত গড়ার দায় যিনি তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। কিন্তু একজন শিক্ষক যে শুধু স্কুলের গন্ডীর মধ্যেই পাঠ দিতে পারেন এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছেন দুর্গাপুরের প্রাথমিক শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর।

জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও দেশের এবং দশের কথা ভেবে নিজেশরীরকে উৎসর্গ করতে চেয়েছেন বিজ্ঞানের গবেষণার প্রয়োজনে। ভারতে আবিষ্কৃত মারণ ভাইরাস করোনার প্রতিশেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য নিজের থেকে এগিয়ে এসেছেন এই অসম সাহসী শিক্ষক।

দেশের মানুষের কথা ভেবে তিনি গত এপ্রিলের শেষের দিকে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রস্তাব লিখিত ভাবে জমা দেন মহকুমাশাসক, জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষবর্ধনের কাছে। অবশেষে সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে আইসিএমআর। কিছুদিন আগেই জানানো হয়েছিল প্রস্তুত থাকুন।

হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক এবং আইসিএমআর-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনা প্রতিষেধকের হিউম্যান ট্রায়াল হবে দেশের মোট ১২ টি সংস্থায়। ভুবনেশ্বরের এক বেসরকারি হাসপাতালে এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর।

এবার এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আইসিএমআরের তরফে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ডাক পেয়েছেন তিনি ওড়িশাতেই তার ওপর এই পরীক্ষা চালানো হবে। চিরঞ্জিতের বাবা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় কাজ করেন। মা গৃহবধূ আর ছোটভাই কলেজ ছাত্র।

পরিবারের বিশ্বাস, যে কাজে দেশের ও দশের কল্যাণ হয় সেইকাজে চিরঞ্জিতের কিছু হবে না। আমরাও চাই এই কঠিন সময় তাড়াতাড়ি কেটে যাক। সবাই সুস্থ জীবন ফিরে পাক। আইসিএমআরের সাড়া পেয়ে আপ্লুত চিরঞ্জিত।

তিনি জানান, আমি খুব খুশি। পরিবারের মানুষজন প্রথমে রাজি হননি জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বলে। তবে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাঁদের এখন মানিয়ে নিয়েছি। তবে বেশ কয়েকবার এই পরীক্ষার কারণে ওড়িশা যেতে হবে। সেই খরচ যোগানোর জন্য বিধায়ক, সাংসদের কাছে সাহায্য চেয়েছি।

অপেক্ষা এখন চিরঞ্জিতের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের। সেই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক চিরঞ্জিত যে জীবনের পাঠ দিয়ে যাচ্ছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে জন্ম জন্মান্তর ধরে।


No comments