Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

"গুজরাট নয়-বাংলাকে শাসন করবে বাংলা", একুশের ভার্চুয়াল সভা থেকে ২১শে বিজেপির জমানত বাজেয়াপ্ত করার ডাক দিলেন মমতা !

অরিন্দম দাস, কলকাতা : করোনার কারণে ভার্চুয়াল সভাতেই শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো, বিজেপিকে উৎখাত করা এবং রাজ্যে তৃনমূলের সরকারের একাধিক উন্নয়নের কথা বললেন তৃনমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। …

অরিন্দম দাস, কলকাতা : করোনার কারণে ভার্চুয়াল সভাতেই শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো, বিজেপিকে উৎখাত করা এবং রাজ্যে তৃনমূলের সরকারের একাধিক উন্নয়নের কথা বললেন তৃনমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন একুশের  বিধানসভায় বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত করে ঐতিহাসিক জনসভা করার ডাক দিলেন তিনি। বিজেপিকে আক্রমণ করে জানান "গুজরাট নয়, বাংলা বাংলাকে শাসন করবে "।

একুশের বিধানসভায় রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া যুযুধান দুই পক্ষ তৃনমূল-বিজেপি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে ২১ জন শহীদ এবং দলীয় কর্মী তমোনশ ঘোষ, অবনী জোয়ারদার, অনিল অধিকারী, পুলিশ, ডাক্তার দের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি সীমান্তে শহীদ জওয়ান, কোভিডে মৃত, আমফানে মৃতদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। এদিন এই মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তিনি। বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা, গঞ্জনা, লাঞ্ছনা, অসম্মানে জর্জরিত বাংলা তথা বাংলার মানুষ। তাই সুস্থ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বাংলার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে ঘাসফুল শিবিরেই আস্থা রাখার অনুরোধ করেন বাংলার প্রতিটি মানুষকে।

তিনি বলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরলে মানুষের জন্য সারাজীবন বিনামূল্যে রেশন-স্বাস্থ্য-শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করবেন। আমফান ক্ষতিগ্রস্থদের কথা বলে তিনি বলেন আমরা অনেক জীবন বাঁচাতে পারলেও তাদের জীবিকা বাঁচাতে পারিনি। রাজ্যে কোভিড-আমফানে বাংলা কার্যত বিপর্যস্ত, কিন্তু তার মধ্যেও বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস নোংরা রাজনীতি করছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের টাকা কিছুদিনের মধ্যেই দেওয়া হবে পাশাপাশি রেশন কার্ড না থাকায় কুপন না পাওয়ার যে অভিযোগ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছিল সেই বিষয়ে নজর রেখেও যথাসম্ভব সেই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রেশন দুর্নীতি রুখতে এবং এলাকায় এলাকায় মানুষের পাশে নিঃস্বার্থে দাঁড়ানো এবং বিনামূল্যে সাহায্যের বার্তা দেন কর্মী সমর্থকদের। তিনি বলেন, রাজ্যের সরকার ১০ কোটি মানুষকে ফ্রিতে রেশন দিয়েছে। রাজ্যে উন্নয়নের কথা কেউ বলে না, শুধু সর্বনাশ, বুদ্ধিনাশ, সত্যনাশের চিন্তাভাবনা চলে। কথায় কথায় বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চক্রান্তে নেমেছে বিজেপি। তাই ভোটের আগে ভোট কিনতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর চক্রান্ত চালাবে ওরা। যেসব কর্মীরা সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপিতে গিয়ে ভাবছেন ভূল করেছেন তারা তৃণমূলে ফিরে আসুন। কারণ তৃণমূলে শাসন আছে, শোষণ নেই।

দেশের সর্বত্র গুন্ডা রাজনীতির খেলা খেলছে বিজেপি। নাম না করে উত্তরপ্রদেশে বিকাশ দ্যুবেকে এনকাউন্টার করার ঘটনা তথ্য প্রমান লোপাটের জন্যই করা হয়েছে বলে বলেন। সর্বত্র পুলিশ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সাধারণ মানুষের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। ত্রিপুরা, আসামের মত রাজ্যের মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না তাদের নাগরিক পঞ্জীর করালগ্রাসে ফেলে পিষে মারছে বিজেপি। NPR,NCR এর প্রতিবাদে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলায় সেই এনপিআর এনসিআরের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আমরা সবাই নাগরিক। বাংলা ছিটমহল এবং উদ্বাস্তুদের অধিকার ফিরিয়েছে। গায়ের জোরে কেন্দ্রে বসে এজেন্সি দিয়ে দেশ চালাচ্ছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, রাজস্থানে টাকা দিয়ে সরকার ভাঙার চক্রান্ত চালাচ্ছে ওরা। দেশে কালাকানুন চলছে।

নাম না করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেও তোপ দাগলেন তিনি। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে ফোন করে ভিসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, রাজ্যের ছাত্রঐক্য এই মনোভাব মেনে নেবেনা, প্রয়োজনে ছাত্র সমাজ পথে নেমে আন্দোলন শুরু করবে। পাশাপাশি তিনি কোল ইন্ডিয়া, রেল বেসরকারিকরনের বিরোধিতার করেন। করোনার কারণে এমপিদের মাইনে, ল্যাড বন্ধ করেছে কেন্দ্র কিন্তু বাংলার সরকার রাজ্যের সব সরকারী কর্মচারীদের মাসের প্রথমেই এখনও এই পরিস্থিতিতে মাইনে দিয়ে আসছে। শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের সময় ভোট কেনার চক্রান্তে লিপ্ত হওয়ার ঘটনাকে কটাক্ষ করেন তিনি।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে মানুষকে ভয় বা অযথা আতঙ্ক না হওয়ার কথা জানান তিনি। আগস্ট মাসের মধ্যে রাজ্যের সাড়ে ২৩ হাজার শয্যা তৈরীর কথা বলেন তিনি। লকডাউনে  পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্য থেকে নিয়ে আসা তাদের খাওয়া-দাওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে আড়াইশো কোটি টাকা খরচ করেছে বাংলা। রাজ্যের একাধিক প্রকল্প সবুজসাথী, কন্যাশ্রী স্বাস্থ্যসাথী, জয় বাংলা, জয় জোহার সহ একাধিক প্রকল্পের খতিয়ান সাধারণ মানুষ এবং কর্মী-সমর্থকদের কাছে তিনি তুলে ধরেন। প্রকল্প হেতু বিনা পয়সায় কৃষকদের শস্যবীমা দেওয়া, ট্রাইবলদের জমি জোরপূর্বক না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এছাড়া মাটি সৃষ্টি প্রকল্পে মানুষদের কর্মযজ্ঞে সামিল করার মতন একাধিক প্রকল্প তিনি সাধারণ মানুষদের জন্য ঘোষণা করেন।

এদিন কেন্দ্রকে তোপ দেগে  তিনি বলেন যেখানে সারাদেশে ৪৫% বেকারত্বের হার বেড়েছে, সেখানে রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারত্বের হার কমেছে। আগামী দিনে তিনি ছাত্র ছাত্রী এবং যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন বলেও জানান। চলতি বছরেই এই কর্মসংস্থানকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপায়ণ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন। এদিন ভবিষ্যতে বাংলার সংস্কৃতি ঐক্যতা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যুবসমাজকে পাশে চান তিনি।

#NewzBangla #TMCSahidDiwas #নিউজবাংলা #BengaliNews #NewsUpdate #MamataBanerjee #AllIndiaTrinamoolCongress

আমাদের প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান নীচের কমেন্ট বক্স-এ। আপনার মূল্যবান মন্তব্য ও পরামর্শ আমাদের চলার পথ সমৃদ্ধ করবে।


No comments