Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

লকডাউনে ৩০ আইভিএফ শিশুর স্রষ্টা সাংসদ-বিধায়ক জুটি !

নিউজ বাংলা, কলকাতা : বেশ কয়েক দশক ধরেই কয়েক হাজার স্বামী স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করে আসছে রাজ্যের সাংসদ ও বিধায়ক জুটি। চিকিৎসা জগতে ৩৫-৪০ বছর তাঁরা কাটিয়েছেন আইভিএফ শিশুর জন্ম দিয়েই। রাজ্য এবং দেশের বাইরের মানুষদের এই লকডাউনের মধ্যেও…

নিউজ বাংলা, কলকাতা : বেশ কয়েক দশক ধরেই কয়েক হাজার স্বামী স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করে আসছে রাজ্যের সাংসদ ও বিধায়ক জুটি। চিকিৎসা জগতে ৩৫-৪০ বছর তাঁরা কাটিয়েছেন আইভিএফ শিশুর জন্ম দিয়েই। রাজ্য এবং দেশের বাইরের মানুষদের এই লকডাউনের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছেন। সেই চিকিৎসক জুটি হলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বিধায়ক সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার।

রাজনীতির অলিন্দে এই স্বামী-স্ত্রী একজন ২০১১ থেকে মহিষাদলের বিধায়ক সুদর্শন। আর ২০০৯ থেকে তিনবারের সাংসদ পদে বহাল কাকলি। রাজনীতির দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়েও চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে মুখ সরিয়ে নেননি। যেখানে লকডাউনেই বিভিন্ন চিকিৎসক তার ক্লিনিক বন্ধ করে রেখেছিলেন সেখানে উল্টে লকডাউনেও জিডি ইনস্টিটিউট ফর ফার্টিলিটি রিসার্চের দরজা সবদিন খোলা। বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আস্থাময়ী ক্লিনিক এই দম্পতির।

১৯৭৮ সালে ভারতে প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জন্ম দেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। পৃথিবীতেও সেই প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম। টেস্ট টিউব বেবির জন্ম নতুন এই দিশা নিয়ে জনরোষ এবং সমালোচনা তৈরী হয় সারা দেশে। বাধ্য হয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তার প্ৰিয় ছাত্র সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার গুরুর প্রচেষ্টাকে মান্যতা দিয়েই ১৯৮৬ সালে কলকাতায় টেস্ট টিউব বেবির জন্ম দেন। তিনি জানান, ডাক্তারি আমার প্যাশন, এটা ছাড়া থাকার কথা ভাবতে পারিনা।

২০০৫ সালে এশিয়ার প্রথম কোনো সারোগেট মায়ের গর্ভে আইভিএফ শিশুর জন্ম তার হাত ধরেই। পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলার শরীরে ডিম্বাণু বাড়ছে কিনা, তার অবস্থান কি সেই বিষয় জানতে আল্ট্রাসাউন্ড পদ্ধতির সাহায্য নিতে হয়। সেই কাজেই বেশ পারদর্শী কাকলি  ঘোষ দস্তিদার। ভারতে প্রথম থ্রি ডি আল্ট্রাসাউন্ডের আগমন হয় কাকলির হাত ধরেই। যা আইভিএফ প্রক্রিয়াকে অনেকটাই সাহায্য করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে।

মূলত যারা গর্ভধারণে অক্ষম, তাদের ঋতুচক্রের দ্বিতীয় দিন থেকে একটি হরমোনাল ইনজেকশন দিতে হয়। একাধিক মানের ভালো ডিম্বাণু তৈরিতে প্রয়োজনে ৭-১০ দিন পর্যন্ত ইনজেকশন দেওয়া হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সেই ডিম্বাণুর অবস্থান, পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া সবটাই বুঝতে পারা যায়। অক্সফোর্ড থেকে ডাক্তারি পাস করে বাবা মায়ের ক্লিনিকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনাথ ঘোষ দস্তিদার।

সুদর্শন-কাকলির ক্লিনিক কলকাতার ভবানীপুরে। লকডাউন পরিস্থিতিতে সব পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ সেই বাধা সামলে রাজ্য সহ নানান মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার বিষয় সেভাবে সহজ ব্যাপার ছিল না। তাদের যাতায়াতের অসুবিধার কথা ভেবে গড়িয়াহাটের ক্লিনিকে সুরক্ষা বিধি মেনেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়। আর যাদের প্রসবের সময় এসে গিয়েছিল তাদের সমাধান হিসেবে স্থানীয় চিকিৎসকদের স্কাইপি কলেই উপায় বাতলে দিতেন চিকিৎসক দম্পতি।

৩৫-৪০ বছর চিকিৎসক জীবনে তাদের হাতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বহু জুনিয়র চিকিৎসক। আপদকালীন মুহূর্তে তাই রাজ্যের সর্বত্র তাদের সহকর্মীরাই আশার আলো দেখিয়েছেন পরিবার গুলিকে। বাবা-ছেলে-মায়ের জুড়িতেই আজ বহু পরিবার খুশির মুখ  দেখতে পান। আর  সুদর্শন, বিশ্বনাথ, কাকলিরা রাজনীতি বা টাকাপয়সায় নয় এই কাজেই সার্থকতা খুঁজে পান।

তথ্যসূত্র - আনন্দবাজার


No comments