Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

শাঁখা-সিঁদুর ছাড়া হিন্দু বিবাহিতার স্বীকৃতি মেলে না, পর্যবেক্ষণ গুয়াহাটি হাইকোর্টের !

নিউজ বাংলা ডেস্ক : বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন তিনসুকিয়ার ডিগবয়ের বাসিন্দা ভাস্কর দাস। স্ত্রী রেনু দাসের সাথে সংসারে মিল হচ্ছিল না অনেকদিন ধরেই। তাই মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি রেনু দাসের কথা শুনে যে মত দিয়েছেন তাতে হিন্দু মহিল…


নিউজ বাংলা ডেস্ক : বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন তিনসুকিয়ার ডিগবয়ের বাসিন্দা ভাস্কর দাস। স্ত্রী রেনু দাসের সাথে সংসারে মিল হচ্ছিল না অনেকদিন ধরেই। তাই মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি রেনু দাসের কথা শুনে যে মত দিয়েছেন তাতে হিন্দু মহিলারা বিয়ের পর শাঁখা সিঁদুর না পরার অর্থ তারা সেই বিয়ে মানেন না বা নিজেকে অবিবাহিত মনে করেন। গুয়াহাটি আদালতের এই পর্যবেক্ষনেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক।

হিন্দু লোকাচার মেনে মেয়েরা বিয়ের পর সিঁথি ভর্তি সিঁদুর, হাতে শাঁখা, পলা পরবে এটাই নিয়ম হিসেবে মেনে আসছেন সকলে। বর্তমান সময়ে বিবাহের পরে অনেকেই আর সেইসবে আস্থা রাখছেন না। অনেকেই জানিয়েছেন, বিবাহিতা তা প্রমানের জন্য রেজিস্ট্রি পেপার আছে যা আইনত স্বামী স্ত্রীর মর্যাদা দান করে। সেক্ষেত্রে কারোর এই শাঁখা, সিঁদুর না পরে থাকার অর্থ এটাই হয় না যে তিনি বিবাহিতা নন।

ঠিক এই তথ্যই গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অজয় লাম্বা ও সৌমিত্র সাইকিয়ারে নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানিয়েছিল রেনু দাস। সাথে এও বলেন তিনি ভাস্করকে নিজের স্বামী হিসেবে মানেন না সেকারণেই শাঁখা সিঁদুর পরার প্রয়োজন মনে করেন না তিনি। রেণুর সেই কথা শুনে বিচারপতির বেঞ্চ শাঁখা সিঁদুর কেই বিবাহের মূলগুরুত্ব দিয়ে বসেন।

জানা যায়, বিয়ের পর রেনু তাঁর স্বামী ভাস্করের সাথে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে নারাজ হন। অগত্যা স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থলে থাকতেন। যতদিন যায় সমস্যা মেটেনা। পরে  সন্তানধারণের অভিযোগ তোলে ভাস্করের দিকে। সে তথ্য বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে রেণুর কাছেই। তারপর থেকে দুজনে আলাদা থাকা শুরু করেন। অনেকবার পারিবারিক বিবাদের জেরে মামলাও করেছেন ভাস্করের পরিবারের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত আদালতে ভাস্কর দাস বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন।

সাথে একাধিক অভিযোগ আসে রেণুর বিরুদ্ধে। ভাস্করকে তাঁর পরিবার থেকে জোরপূর্বক আলাদা করা, শাশুড়ির সাথে দুর্ব্যবহার এবং পরিবারের বিরুদ্ধে বারংবার মিথ্যে মামলা। রেনু জানায়, ভাস্কর তার সাথেই ডিব্রুগড়ে থাকুক। নাহলে চাহিদামতো টাকা পেলে ডিভোর্স দিয়ে দেবেন। ২০১৩ থেকে আলাদা থাকার পর এতদিন শাঁখা সিঁদুর না পরে থাকার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতি লাম্বা ও সাইকিয়ার বেঞ্চ জানায় এই বিয়ে টিকিয়ে রেখে কোন লাভ নেই। শাঁখা সিঁদুর না পরা মানেই নিজেকে অবিবাহিতা মনে করা বা সেই বিয়ে না মেনে নেওয়া।  তাই গত ১৯জুন বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করাও হয়েছে।

বিচারপতিদের এই মন্তব্যে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করেন। সনাতন রীতি মেনে বিয়েতে সবটাই চল আছে ঠিকই কিন্তু এটাই তো কোনো প্রকৃত পরিচিতি প্রদান করতে পারে না একজন মেয়ের ক্ষেত্রে যে সে বিবাহিতা না অবিবাহিতা। হিন্দু বিবাহ আইনে বিবাহ সম্পর্কিত আচার মানতে বলা হয়েছে। সেখানে শাঁখা সিঁদুরের কোনো উল্লেখ নেই। আবার উজানি অসমে শাঁখা পরার চল নেই। শাঁখা সিঁদুর পরা অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয় সেখানে আদালত যদি সেগুলিকেই বিয়ের চিহ্ন হিসেবে সিলমোহর দেয় তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই মত প্রকাশ অনেকের।


No comments