Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Exclusive : PMGKP প্রকল্পে ৩ মাস বিনামূল্যের এলপিজি সিলিন্ডার মিলবে কিভাবে, জেনে নিন খুঁটিনাটি !



নিউজবাংলা ডেস্ক :  দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের দৌলতে রোজগার শিকেয় উঠেছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে বাড়িতে আটকে থেকে দু'বেলা দু'মুঠো খাওয়ার সংস্থান করাটাই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রের সরকার দেশজুড়ে গরীব মানুষদের আগামী ৩ মাস বিনামূল্যের গ্যাস বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যান প্যাকেজের মাধ্যমে প্রতিটি উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসে একটি করে ১৪.২কেজি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এর জন্য প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ করে দিয়েছে কেন্দ্র। তবে কিভাবে মিলবে এই বিনামূল্যের গ্যাস তা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে গ্রাহকদের মধ্যে।



নিউজবাংলা'র এই প্রতিবেদনে বিনামূল্যের গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে সমস্ত খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে আমাদের মূল্যবান পাঠকদের জন্য। এই বিমানূল্যের গ্যাস পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের করণীয় কি বা গ্যাস বিতরক সংস্থাই বা কিভাবে গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে পারবেন তা নিয়েই তুলে ধরা হল বিস্তারিত তথ্য।

বিনামূল্যের গ্যাস পাবেন কারা?
কেবলমাত্র উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY)-এর অন্তর্গত গ্যাস সংযোগ পাওয়া সমস্ত সচল গ্রাহক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। এর বাইরে সাধারণ ভাবে সংযোগ নেওয়া কোনও গ্রাহক এই সুযোগ পাবেন না। 

কিভাবে দেওয়া হবে বিনামূল্যের গ্যাস?
প্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা সমস্ত গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম মাসের ১টি ১৪.২কেজি গ্যাস সিলিন্ডার তোলার জন্য (৫কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ৩টি সিলিন্ডারের দাম) প্রয়োজনীয় অর্থ আগাম প্রদান করা হবে। যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গ্রাহকরা সফল ভাবে তাঁদের সাবসিডি পেয়ে থাকেন সেই ব্যাঙ্কেই আগাম টাকা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।



এই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার পরেই একজন গ্রাহক তাঁর রেজিস্ট্রিকৃত মোবাইল ফোন থেকে IVRS/ Whatsapp/ Mobile App/ PayTM প্রভৃতি মাধ্যম থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং করতে পারবেন। এরপর গ্যাস বিতরক সংস্থাকে নির্দিষ্ট দাম দিয়ে গ্যাস কিনতে পারবেন। কোনও গ্রাহকের মোবাইল নম্বর না থাকলে তিনি নির্দিষ্ট গ্যাস বিতরক সংস্থা (Distributor)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

কিভাবে মিলবে ৩ কিস্তির টাকা?
যে সমস্ত গ্রাহক এপ্রিল মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে বুকিং করে গ্যাস তুলবেন তাঁরাই পর্যায়ক্রমে পরবর্তী কিস্তির টাকা পাবেন। যা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাঙ্কে ঢুকবে। আবারও মে মাসে গ্যাস তুললে তবেই জুন মাসে টাকা ঢুকবে।

এক্ষেত্রে কোনও গ্রাহক যদি একবারও গ্যাস না তোলেন তাহলে তাঁদের ব্যাঙ্কে আর দ্বিতীয় বা তৃতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে না। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের প্রাপ্ত টাকা দিয়ে আগামী ১ বছরের মধ্যে যে কোনও সময় গ্যাস তোলা যাবে। তবে এই বিনামূল্যের প্রাপ্ত গ্যাস থেকে কোনও সাবসিডি প্রাপ্য থাকছে না, কারন সমস্ত টাকাটাই গ্রাহককে আগাম দেওয়া হচ্ছে।




কোনও গ্রাহকের মোবাইল বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্থা থাকলে করণীয় কি?
কোনও গ্রাহকের রেজিষ্ট্রিকৃত মোবাইল অচল হয়ে গেলে এই ৩ মাসের মধ্যে কেবলমাত্র একবারের জন্য নতুন মোবাইল রেজিষ্ট্রি করা যাবে। এক্ষেত্রে গ্যাস বিতরক সংস্থার কাছে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আবেদন করতে হবে। তারপরেই মোবাইল নম্বর বদল হবে।

কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢুকলে তাঁরা দ্রুত গ্যাস বিতরক সংস্থার কাছে গিয়ে এর কারন জানতে পারেন। তারপর দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন যাতে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে গ্যাস কানেকশানের সংযোগ করা যায়।

গ্যাস বিতরক সংস্থা সূত্রে খবর, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না তাঁদের জন্য পুনরায় পরবর্তী সপ্তাহে টাকা ঢোকানোর প্রক্রিয়া করা হবে। তাই যাদের ব্যাঙ্কে সাবসিডি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে তাঁরা গ্যাস বিতরক সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে সমস্যা মিটিয়ে নিতে পারেন।   

গ্যাস বিতরক সংস্থাগুলির করনীয় কি?
এই প্রকল্পের আওতায় থাকা কোনও গ্রাহক যখন গ্যাসটি বুকিং করবেন সেই সময় তাঁদের রেজিস্ট্রিকৃত মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। গ্যাসের ডেলিভারি বয় গ্রাহককে সিলিন্ডার প্রদানের পর সেই ওটিপি সংগ্রহ করে তা বিতরক সংস্থার কাছে জমা দেবে। এই ওটিপি ব্যবহার করে বিল ডেলিভারী পোস্টিং করলে তবেই তা PMGKP প্রকল্পের জন্য গৃহীত হবে।



এছাড়াও ডেলিভারী বয় তাঁদের ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অ্যাপে'র মাধ্যমেও গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে গ্যাস দেওয়ার পর সেখানে দাঁড়িয়েই বিলটিকে ডেলিভারী করতে পারবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই উপরোক্ত দুই নিয়মের ব্যতিক্রমও থাকছে। তবে গ্যাস ডেলিভারীর পর কুপনের যে অংশে গ্রাহকেরা স্বাক্ষর করেছেন তা পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য যত্ন করে রাখাই বাঞ্ছনীয়।





No comments