Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

হলদিয়ায় মা ও মেয়েকে খুন করে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় মুম্বাই থেকে পাকড়াও অপর অভিযুক্ত !



নিউজবাংলা ডেস্ক : হলদিয়ার ঝিকুড়খালিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল মা ও মেয়েকে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত সেক সাদ্দাম ও তাঁর দুই সঙ্গীকে ইতিমধ্যে পাকড়াও করেছে পুলিশ। তবে অপর অভিযুক্ত হলদিয়ার দুর্গাচক কলোনী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা আমিনুর হোসেন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

টানা তল্লাশির পর অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সেক আমিনুর ওরফে পিন্টুকে মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও ওয়েস্ট এলাকা থেকে পাকড়াও করেছে হলদিয়ার পুলিশ। ধৃত আমিনুরকে মুম্বাইয়ের স্থানীয় আদালতে তোলার পর বিচারক তাঁকে ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ট্রানজিট রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।



পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে দ্রুত মুম্বাই থেকে নিয়ে এসে হলদিয়া আদালতে হাজির করা হবে। এরপর ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে। প্রসঙ্গতঃ কলকাতার নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা রিয়া দে (২২) ও তাঁর মা রমা দে (৪০)কে হলদিয়ায় এনে খুন করার পর পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে পুলিশ সেখ সাদ্দাম ও তাঁর এক সঙ্গী শেখ মনজুরকে গ্রেফতার করে। এরপর তদন্তের জাল যতই গুটিয়ে আসতে থাকে ততই প্রকাশ্যে আসতে থাকে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, রমা দে'র সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছিল সাদ্দাম। এরপর সামনে আসে রিয়া দে।



তাঁকেও একসময় ভালো বেসে ফেলে সাদ্দাম। সেই ভালোবাসা থেকে সাদ্দাম ও রিয়া হলদিয়া আদালতে রেজিষ্ট্রি ম্যারেজও সেরে নেয়। কিন্তু তারপরেও রিয়া'র মা রমা'র সঙ্গে সাদ্দামের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকে। যা নিয়ে রিয়া'র সঙ্গে শুরু হয় মনোমালিন্য। অন্যদিকে রমা দে আবার সম্প্রতি অন্য যুবকের প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেছিল। আবার রিয়া'র সঙ্গে নিউ ব্যারাকপুরে কোনও যুবকের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলেও সন্দেহ জাগে সাদ্দামের মনে।

এমনই সব জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে জড়িয়ে যাওয়ার কথা নিজের ডায়েরির কয়েকটা পাতায় লিখে গিয়েছে রিয়া। এমন পরিস্থিতিতে রিয়া ও তাঁর মা' রমা'কে চরম শাস্তি দিতে পরিকল্পনা করে সাদ্দাম। তাঁর সঙ্গ দেয় জনা কয়েক বন্ধু। ১৭ ফেব্রুয়ারী রিয়া'র মায়ের সঙ্গে মদের আসরে বসে সাদ্দাম। রাত্রি ৮টা নাগাদ আনা হয় চাউ।




সেই চাউ'য়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁদের খাইয়ে দেওয়ার পর অচৈতন্য রিয়া ও তাঁর মা'কে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর মৃতদেহগুলিকে প্রথমে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হয়। কিন্তু সেখানে সিসিটিভি থাকায় প্ল্যান বদল করে ঝিকুড়খালির নদীপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয় দেহদুটি।

সেখানে গর্ত খুঁড়ে দেহগুলি কবর দেওয়ার সময় রিয়া'র মা নড়েচড়ে ওঠে। তা দেখেই মৃতদের গায়ে পেট্রোল ছিটিয়ে তাঁদের পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা হয়। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ মনজুর আলম মল্লিক নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সহ আরও দুজনের নাম পায়। মূল অভিযুক্ত সাদ্দাম হুসেনকে গ্রেফতার করে। দুজনকে ২৩ ফেব্রুয়ারি হলদিয়া আদালতে তোলা হলে ধৃতদের ১৪ দিন পুলিশ হেফাজত হয়।

এরপর ২৭ তারিখ রাতে সুখদেব দাস নামে এক অভিযুক্তকে হলদিয়ার ভবানীপুর থানার দাসমোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৮ তারিখ তারও ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়। ফেরার বাকি এক অভিযুক্তের খোঁজে এদের দফায় দফায় জিজাসাবাদ চালানো হয়। এরপর পুলিশের একটি টিম ওই অভিযুক্তের মুম্বাইয়ে আত্মগোপন করে থাকার খবর পায়। এরপর জেলা পুলিশের একটি টিম গোপন অভিযান চালিয়ে মুম্বাই থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে।

পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখার্জী জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশের একটি দল ওই যুবককে মুম্বাই থেকে পাকড়াও করেছে। ধৃত যুবককে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে হলদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। বুধবার তাঁদের হলদিয়ায় ফিরে আসার কথা রয়েছে। হলদিয়ায় এলেই ধৃতকে আদালতে তোলা হবে।






No comments