Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

ধরা পড়েও নির্লিপ্ত হলদিয়ায় মা ও মেয়েকে জ্যান্ত পোড়ানোর ঘটনার মূল অভিযুক্ত, কি ভাবে রহস্যের কিনারা, দেখুন ! (Video)



নিউজবাংলা ডেস্ক : গত ১৮ ফেব্রুয়ারী হলদিয়ায় মা ও মেয়েকে নৃশংস ভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে খুন করে একদল উন্মত্ত যুবক। ভোরের আলো ফোটার মুখে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা দেহ দুটিকে দেখে শিউরে উঠেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে বালতি ভরা জল ছিটিয়ে ছিটিয়ে সেই আগুন নেভায় স্থানীয়রা।

এরপর প্রায় ৫ দিনের মাথায় শনিবার পুলিশের জালে ধরা পড়ে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত পেশায় ঠিকাদার শেখ সাদ্দাম হুসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়াও ধরা পড়ে তাঁর অপর এক সঙ্গী সেক মনজুর। কিন্তু ধরা পড়ার পর দুই দুষ্কৃতীর নির্লিপ্ত ভাবেই হতবাক পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এই নৃশংস ঘটনার জন্য কোনও অনুশোচনাই দেখা যায়নি।



রবিবার ধৃতদের প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের আনা হয় হলদিয়া মহকুমা আদালতে। আর এই গোটা সময়ে ধৃতদের চোখেমুখে আতঙ্কের লেশ মাত্র নজরে আসেনি। যারা এই নৃশংস কান্ড ঘটাল তাঁদের এহেন আচরণ সবাইকেই যথেষ্ট অবাক করেছে।

রবিবার সন্ধ্যে নাগাদ যখন গোটা ঘটনার সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন পুলিশ সুপার সেই সময় তাঁর পেছনেই মুখোশ পরে দাঁড়িয়ে ছিল দুই অভিযুক্ত। সে সময় সাংবাদিকদের দিকে বেশ উৎসুক চোখেই তাকিয়ে ছিল দুই দুষ্কৃতী। 

দেখুন ভিডিওটি-
 

কিভাবে এই ঘটনা থেকে উঠল পর্দা ?

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রথমেই দেহদুটিকে ময়না তদন্তে পাঠিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় মৃত দেহ দুটি দুই মেয়ের। যার একজনের বয়স প্রায় ২০ থেকে ২২ এবং অপরজনের বয়স ৩০ এর বেশী। তবে সব থেকে শিউরে ওঠার মতো ঘটনা হল, ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেই জানা গিয়েছে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে দুই মহিলাকে।



ঘটনার নৃশংসতা জানার পরেই দুষ্কৃতীদের ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ইন্দিরা ব্যানার্জী সরাসরি ময়দানে নামেন। এই ঘটনার তদন্তে গঠিত হয় ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

প্রথমেই পুলিশের বিভিন্ন পোর্টালে নিখোঁজ দুই মহিলা সম্পর্কে তথ্য সন্ধান করা হয়। তবে সেই চেষ্টা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ হন পুলিশ সুপার। দুই মহিলার চুলের নমুনা, পোশাকের নমুনা জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেই একে একে ৮টি জায়গা থেকে দুই মহিলার নিখোঁজের ঘটনা পুলিশের কাছে আসে।




তারমধ্যে নিউ ব্যারাকপুর থেকে খবর আসে মা ও মেয়ের নিখোঁজের বিষয়টি। পুলিশ জানতে পারে মৃত রিয়া দে (ফেসবুক পেজ আয়েশা দে) ১৭ ফেব্রুয়ারী তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ঘরের মধ্যে থেকে নিজের ছবি আপলোড করেছিল। যা সম্ভবতঃ হলদিয়া থেকেই করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি মেয়েটির ফোনের কল রেকর্ড খুঁজতে গিয়েই হলদিয়ার সেক সাদ্দামের খোঁজ পায় পুলিশ। তারপরেই সাদ্দাম ও তাঁর সঙ্গীকে পুলিশ গ্রেফতার করে দুর্গাচক এলাকা থেকে। এরা সকলেই হলদিয়ার বাসিন্দা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা ঘটনার কথা স্বীকার করে বলে দাবী পুলিশের।






No comments