Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

পূর্ব মেদিনীপুর ছেড়ে মায়াচর দ্বীপকে হাওড়ায় জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে চাপা ক্ষোভ বাড়ছে অন্দরে !



নিউজবাংলা ডেস্ক : রূপনারায়ন নদীর একদিকে পূর্ব মেদিনীপুর আর অন্যদিকে হাওড়া জেলা। কিন্তু সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই হাওড়া জেলার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে মায়াচর দ্বীপ। কিন্তু দ্বীপটি রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল থানার অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতেই।



আর এই দ্বীপে চাষবাস ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যারা বসবাস করেন তাঁদের অধিকাংশই অমৃতবেড়িয়া সহ আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। যার কারনে মায়াচর দ্বীপের বাসিন্দাদের বড় অংশের মানুষেরই নাড়ির টান রয়েছে মহিষাদলের সঙ্গে। আর তাঁদের যোগাযোগের মাধ্যম খেয়া পারাপার।

কিন্তু দিন কয়েক আগে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সবকিছুকে ওলটপালট করে দিয়েছে। ওইদিন মায়াচর থেকে যাত্রী বোঝাই একটি খেয়া নৌকো অমৃতবেড়িয়া আসার পথে মাঝ নদীতে উল্টে যায়। অধিকাংশ যাত্রী জলে ভেসে পাড়ে উঠে গেলেও কয়েকজন হতভাগ্য ব্যক্তি এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

আর তারপর থেকেই প্রশাসনিক মহলে তোড়জোড় শুরু হয়েছে মায়াচর দ্বীপকে পূর্ব মেদিনীপুরের মানচিত্র থেকে সরিয়ে হাওড়া জেলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার জন্য। সম্প্রতি রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মর্মে তাঁদের তৎপরতার কথা সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন। যা ঘিরে গোটা মায়াচর দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যেই ছড়িয়েছে চাপা উত্তেজনা।



এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে এলাকাবাসীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও এলাকায় গেলেই সেই চাপা উত্তেজনার আঁচ মিলছে। তাঁদের দাবী, এলাকাবাসীরা কি চায় অথবা তাদের সুবিধে ও অসুবিধের বিষয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি। তাঁরা মহিষাদল বা পূর্ব মেদিনীপুরের মূল ভুখন্ডে আসার জন্য উন্নত জলপথ যোগাযোগের দাবী জানিয়েছিলেন। তা না পূরণ করে জেলা থেকেই দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে কেন।

এই বিষয়ে এলাকাবাসীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুরের সঙ্গে থাকতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। কারন, নদী পেরিয়ে সামান্য পথ পাড়ি দিলেই মহিষাদল ব্লক অফিসে আসা যায়। আবার চিকিৎসার জন্য জেলা সদর তমলুক হাসপাতালে আসাটা অনেক সহজ। তুলনায় তাঁদের হাওড়া জেলা সদর বা জেলা হাসপাতালে যেতে হলে প্রায় ৭৭ কিমি পথ পাড়ি দিতে হবে।




হাওড়া জেলার সঙ্গে যুক্ত হলে মায়াচর থেকে মহকুমা অফিস উলুবেড়িয়ায় যেতে প্রায় ৪৩ কিমি পথ পাড়ি জমাতে হবে। তাছাড়া মায়াচরের অধিকাংশ পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য অমৃতবেড়িয়া বা আশেপাসের এলাকায় বাস করেন। বহু জায়গা জমি রয়েছে মহিষাদলে। তাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে জায়গা জমি নিয়ে হয়রানিও বেড়ে যাবে চূড়ান্ত হারে। 

সবদিক খতিয়ে দেখলে পূর্ব মেদিনীপুরের সঙ্গে জুড়ে থাকতেই বেশী পছন্দ করছেন মায়াচরের বাসিন্দারা। কারন তাঁদের দাবী, নাড়ির টান রয়েছে মহিষাদলের সঙ্গেই। খুব শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন তাঁরা, এমনটাই দাবী এলাকাবাসীদের।

তবে বিকল্প মতও পোষণ করছেন কিছু ব্যক্তি। যারা মূলতঃ হাওড়া জেলা থেকে এসে এখানে বসবাস করছেন তাঁদের ইচ্ছে মায়াচরকে ওই জেলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হোক। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়। 






No comments