Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

গভীর রাতে থানায় হুড়মুড়িয়ে ঢুকেই জ্ঞান হারালো কিশোর, রহস্য উদ্ঘাটন হতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের !



নিউজবাংলা ডেস্ক : বুধবার রাত্রি তখন প্রায় ১০টা হবে। আচমকাই পূর্ব মেদিনীপুরের মারিশদা থানার ভেতরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল একটি বছর ১২এর কিশোর। হাতে পায়ে সামান্য কাঁটা ছেঁড়া। থানায় ঢুকেই প্রায় সঞ্জা হারায় কিশোরটি। সবাই তো হতবাক, হলটা কি?

চোখে মুখে জল দেওয়ার পর একটু ধাতস্থ হয় ছেলেটি। তারপর সে যা জানাল তা শুনে তো হতভম্ব থানার বড়বাবু থেকে শুরু করে সকলেই। এ ছেলে বলে কি ! ছেলেটির মা নাকি ধারালো কাঁচের টুকরো নিয়ে তাঁর গলার নলি কাটতে উদ্যত হয়েছিল। কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিয়েছে সে।

কিন্তু কেন এমন হল? তার নিজের মা কেন এভাবে তাঁকে প্রাণে মারতে চাইছে? এর পেছনে যে ঘটনা জানাল ছেলেটি তা শুনে শিউরে উঠল সকলেই। ছেলেটির নাম সুশোভন সামন্ত। তাঁর বাড়ি কাঁথি-৩ ব্লকের মারিশদা থানার রানিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী দীর্ঘদিন থাকেন ভিন রাজ্যে। আর মা পেশায় বিড়ি শ্রমিক, বাড়িতেই থাকে। ছেলেটি বেশ মেধাবী এবং স্থানীয় স্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে।



ছেলেটি জানিয়েছে, এবারের পুজোয় সে একটু দামী জামা কাপড় কেনার বায়না করেছিল। কারন তার বাবা জানিয়েছিল, ভিন রাজ্য থেকে সে ভালো জামা কাপড় কেনার টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তার মা অনেকটা কম দামের জামা কাপড় এনে দিয়েছে যা তার পছন্দ হয়নি।

সেই কারনেই ছেলেটি গোপনে তার মামার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইনে জামা প্যান্ট কেনার অর্ডার দিয়েছে। আর সেই টাকা মেটাতে মায়ের এটিএম কার্ড ব্যবহার করেছে সে। এই ঘটনা জানার পরেই রনচন্ডী হয়ে ওঠে ছেলেটির মা। 

এহেন অপরাধের জন্য ছেলেকে পুজোর আগে থেকে কিছু খেতে না দিয়ে টানা ৮ দিন বাড়ির মধ্যে আটকে রাখে তার মা। দিন কয়েক বাদে খিদের জ্বালায় ছেলেটি বাড়িতে থাকা কিছুটা মুড়ি খেয়ে ফেলেছিল। আর সেটা জানতে পেরে তার মা ছেলেটিকে বেধড়ক পেটায়।

এভাবে আরও কিছুদিন কাটার পর অবশেষে বুধবার দশমীর দিন বিকেলে কোনও ক্রমে বাড়ি থেকে পালিয়ে কিছূ দূরের পিসি বাড়িতে যায় ছেলেটি। সেখানে সব বলার পর তারা খাওয়ার দেন। ছেলেটি খেয়েদেয়ে পুনরায় রাতে বাড়ি ফিরে এলে তার মা আর রাগ সামলাতে পারেনি।



ছেলেকে সামনে পেয়েই আয়না আছড়ে ভেঙে ফেলে তার কাঁচ দিয়ে ছেলেটির গলার নলি কাটতে উদ্যত হয় মা। মায়ের হাত ধরে ফেলে প্রাণ বাঁচাতে ছেলেটি চেঁচাতে থাকে। আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ছেলেটিকে ছাড়াতে চেষ্টা করে। এই ধ্বস্তাধ্বস্তির জেরে ছেলেটির হাত ও পায়ে কেটে যায়।




তবে সেই অবস্থাতেই সে ছুটে কোনওক্রমে হাঁপাতে হাঁপাতে থানায় হাজির হয়। এই ঘটনার পর ছেলেটি আর বাড়ি ফিরতে রাজি হয়নি। তাই তাঁকে হোমে পাঠিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় পুলিশে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মারিশদা থানার পুলিশ।




No comments