Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

আকাশের মুখ ভার, তার মাঝেই পটুয়া পাড়ায় বিশ্বকর্মা গড়ার শেষবেলার প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে !



পার্থ খাঁড়া, নিউজবাংলা ডেস্ক : আর মাত্র একটা দিন। তারপরেই শিল্প দেবতা বিশ্বকর্মার পূজো। এদিকে গত কয়েকটা দিন মেঘলা আকাশের সঙ্গে চলছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত। যার জেরে প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যাঘাত হয়েছে যথেষ্ট।

তবে এখন আর হাতে সময় নেই। মঙ্গলবার পেরিয়ে বুধবার সকাল থেকেই মন্ডপে মন্ডপে শোভা পাবেন শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মা। আর সেই সঙ্গেই দুর্গা পুজোর ঢাকেও পড়বে কাঠি। কারন, ভাদ্র সংক্রান্তি পার করে আশ্বিন মাসে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্গার আবাহন শুরু হয়ে যাবে।



এখন তাই পটুয়া পাড়ায় চূড়ান্ত ব্যস্ত রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। শেষ মুহূর্তের তুলির টানে জীবন্ত হয়ে উঠছেন শিল্পের দেবতা। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি এই সবকিছুকে উপেক্ষা করে সঠিক সময়ে মন্ডপে গুলিতে প্রতিমা পৌঁছে দিতে হবে যে।

তেমনি এক কুমোরটুলিতে ব্যস্ততার চিত্র ফুটে উঠল আমাদের ক্যামেরায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ নম্বর ব্লকের জেনকাপুরের গোপাল চন্দ্র বেরা এবার মোট ৫০টি প্রতিমা বানিয়েছেন। যার সবগুলোই বিক্রি হয়ে গেছে।

তবে সঠিক সময়ে প্রতিমাগুলিকে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে তিনি একা নন, পরিবারের ছোট থেকে বড় সব সদস্যই লেগে পড়েছেন কাজে। যেমন গোপাল বাবুর বড় মেয়ে পূর্ণিমা জেনকাপুর হাইস্কুলের মাধ্যমিকের ছাত্রী।

আর ছোট মেয়ে তাপসী অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। এছাড়াও পরিবারের আরেক সদস্য অজিত দত্ত একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত। এরা প্রত্যেকেই গোপাল বাবুর সঙ্গে কাজে লেগে পড়েছে।সংক্ষিপ্ত সময়ে গোপাল বাবুর একার পক্ষে এতগুলো প্রতিমা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।



তাই পড়াশোনার চাপের মাঝেই কেউ বা রঙে, কেউবা তুলির টানে প্রতিমার চক্ষুদানে ব্যস্ত। গোপাল বাবু জানান, "আমরা সারা বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিমা তৈরি করে থাকি। এখানে থিমের ও প্রতিমা তৈরি হয়।

প্রতিমা গড়ার শেষ বেলার প্রস্তুতি, দেখুন কি বলছেন প্রতিমা শিল্পী -


এবারে মোট ৫০টি বিশ্বকর্মার প্রতিমা তৈরি করেছি। যার সবগুলোই বুকিং হয়ে গিয়েছে। আমাদের এই প্রতিমা গুলি খড়গপুর, মেদিনীপুর সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য উড়িষ্যাতেও যায়। সারা বছর ধরে আমাদের এই কাজের মধ্য দিয়ে মূল উপার্জন হয়।




তবে এবারে কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি এর ফলে সঠিক সময়ে ক্রেতাদের হাতে প্রতিমা তুলে দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার সঙ্গে আমার পরিবারের ছেলেমেয়েরা, আর আমার আত্মীয়ের  বাড়ির একজন সহযোগিতা করছে। আশা করি সঠিক সময়ে প্রতিমাগুলি তৈরি সম্পূর্ণ করতে পারব।"

গোপাল বাবুর শিল্পকর্ম সত্যিই অপূর্ব সুন্দর। পরিবারের খুদে খুদে সদস্যরাও সেই সৌন্দর্যকে অপূর্ব সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলতে তৎপর। স্কুলের পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে তাদের এই শিল্পচর্চা শুধু বাংলাতে নয় মন কেড়েছে পাশের রাজ্য ওড়িশাবাসীরও।




No comments