Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

লোকসভা নির্বাচনে সরকারী কর্মীদের ভোটে ব্যাপক সাড়া, এবার বিধানসভার আগে ঘর গোছাতে শুরু করল বিজেপি !

নিউজবাংলা ডেস্ক, কলকাতা :সরকারী কর্মচারীদের ভোট একত্রিত হলে সেটা যে রাজ্যের রাজনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে তা এবারের লোকসভা নির্বাচনেই প্রকাশ পেয়েছে। ২০২১-এ তৃণমূলকে পরাস্ত করে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটানোর ছক কষতে তাই রাজ্যজুড়ে সরক…



নিউজবাংলা ডেস্ক, কলকাতা : সরকারী কর্মচারীদের ভোট একত্রিত হলে সেটা যে রাজ্যের রাজনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে তা এবারের লোকসভা নির্বাচনেই প্রকাশ পেয়েছে। ২০২১-এ তৃণমূলকে পরাস্ত করে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটানোর ছক কষতে তাই রাজ্যজুড়ে সরকারী কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের একত্রিত করার ওপরে জোর দিয়েছে বিজেপি।

এই লক্ষ্যেই গতকাল সোমবার কলকাতায় ৬, মু্রলীধর সেন লেনে বেশ কয়েকটি অসংগঠিত, বেসরকারী সংগঠিত শ্রমিক ইউনিয়ন, রাজ্য সরকারী কর্মচারী সংগঠন সহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে একটি জরুরী সভার পরিচালনা করে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।




সভায় প্রধান ভূমিকা নেন সর্বভারতীয় বিজেপির সংগঠন সাধারণ সম্পাদক শিবপ্রকাশজী। মূল্যবান বক্তব্য পেশ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু ও সঞ্জয় সিং, সহ সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চ্যাটার্জী ও সহকারী সংগঠন সাধারণ সম্পাদক কিশোর বর্মন প্রমূখরা।

প্রসঙ্গতঃ এই রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের আওতায় উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ৯.৫০ লক্ষ। পেনসনারের সংখ্যাও যথেষ্ট। এদের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী, সরকারী দপ্তরে চুক্তি ভিত্তিক প্রচুর সংখ‌্যক কর্মচারী আছেন। সব মিলিয়ে এদের পরিবারের ও প্রভাবিত আত্মীয়, বন্ধুদের নিয়ে ভোটদাতাদের সংখ্যা প্রায় ৪৫ লক্ষ হবে।



তার মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশ ভোট বিজেপির অনুকূলে পোস্টাল ব্যালট, ইভিএমে পড়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের একটা অংশের ভোট আছে। সব ধরে গড়পড়তা প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোট বিজেপির অনুকূলে গেছে। জেতার ক্ষেত্রে সংখ্যাটা যথেষ্ট।

আমন্ত্রিত সনগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় শিবপ্রকাশজীর সূত্র ধরে রাজ্য সভাপতি ও অন্যান্য বিজেপি নেতৃবৃন্দ পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতার কথার উল্লেখ করে সরকারী কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীও শ্রমিক শক্তির গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং ইউনিয়নগুলোকে বিজেপির মদত দেবার সুষ্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশেষকরে এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য সরকারী কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের পোষ্টাল ব্যালটে বিপুল পরিমাণে বিজেপিকে ভোটদানের প্রেক্ষিতে, যা এই প্রথমবার প্রত্যক্ষ করা গেল, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের শ্রমিক কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব আরো বেড়ে যাওয়ার গুরুত্ব মেনে নেওয়া হল।




এই উদ্দেশ্যে ওপরে উল্লেখিত প্রতিটি ক্ষেত্রে একাধিক সনগঠনের পরিবর্তে বিনা ব্যাতিক্রমে কেবলমাত্র একটি করে সনগঠনের অস্তিত্ব রাখার নির্দেশ দেন শিবপ্রকাশজী, দিলীপ ঘোষ। এইভাবে পুনর্গঠিত সংঠনগুলোকে রাজ্য বিজেপির এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আমন্ত্রিত সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এই লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। আরো নির্দেশ দেওয়া হয় যে, পূজোর পর দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবী দাওয়ার ভিত্তিতে, যেমন কেন্দ্রের হারে নয়া বেতন কাঠামো চালু করা, বকেয়া সহ কেন্দ্রের ঘোষণার দিন থেকে মহার্ঘ ভাতা প্রদান, নূন্যতম মজুরি চালু করা।

এছারাও অসংগঠিত শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রদত্ত সমস্ত প্রকার সুরক্ষামূলক প্রকল্প বিষয়ে সচেতন করা, রাজ্য সরকারের মদতপুষ্ট ইউনিয়নের গুন্ডাবাজি বন্ধ করা ইত্যাদি দাবীতে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে এখন থেকেই আমন্ত্রিত ইউনিয়নদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং জনসেবার কাজে আরো বেশী করে মনোনিবেশ করতে হবে।



No comments